পথ দেখাক স্বামীজির বাণী

 

স্বামিজি বলছেন, দুর্বল মস্তিষ্ক কিছু করতে পারে না, আমাদের সবল মস্তিষ্ক হতে হবে, আমাদের যুবকদের প্রথমে সবল হতে হবে, তারপর ধর্ম। আরও বলছেন, যদি পাপ করতেই হয়, তবে যথার্থ কাপুরুষের মত দৃঢ় চিত্তে পাপ কর. স্বাভাবিক মানুষের প্রবৃত্তি তাই. যদি কেউ জেনে অথবা না জেনে পাপ করেও পাপ করে থাকেন, তাহলে তার মধ্যে একটা অনুতাপের প্রবাহ চলে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বামিজি বলছেন ,পাপ  করলেও যেন তার মধ্যে একটা দৃঢ়তা থাকে। রবীন্দ্রনাথ তার গানে বলেছেন, এই দীনতা ক্ষমা কর প্রভু / পিছন পানে তাকায় যদি কভু । একই কথা, শুধু তার প্রকাশটা আলাদা ।স্বামিজি তার প্রিয় যুবক-যুবতীদের  এই বিষয়টাই বুঝিয়ে দিতে ছেয়েছেন, কোনও কিছুতেই হতাশ হওয়ার কোনও কারন নেই।

স্বামিজি লিখছেন, … আমার ভিতরে যে আগুন জ্বলছে তা তোমাদের ভিতরে জ্বলে উথুক, তোমাদের মন মুখ এক হক, ভাবের ঘরে চুরি যেন একদম না থাকে, তোমরা যেন যুদখেত্রে বীরের মত মরতে পারো এটাই বিবেকানন্দের প্রার্থনা। স্বামিজি নিশ্চয়ই আশীর্বাদ করছেন, কিন্তু কি বলে? “যুদখেত্রে বীরের মত মরতে পারো”। এখানেই আর পাঁচজন মহাপুরুষের সাথে তাঁর পার্থক্য। মহাপুরুষরা সব সময়ই ভাল কিছুর জন্য আশীর্বাদ করে থাকেন। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ কি নির্মম ভাবে এই প্রার্থনা করছেন, “যুদখেত্রে বীরের মত মরতে পারো”। আসলে তিনি সবার মধ্যেই সংসার সংগ্রামের বীজ বুনে দিতে চেয়েছিলেন। আমরাতো অল্পেতেই বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত হয়ে পড়ি। রাস্তা খুঁজে বার না করে আমরা সমস্যা নিয়ে, নিজেদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে কি পেলাম কি পেলাম না জাতীয় “সেন্টিমেন্টাল কনসেপ্ট” নিয়ে চর্চা করতে ভালবাসি। স্বামিজি ঠিক এখানটাটেই আঘাত হেনেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, তুমি নিজেই তোমার প্রকৃত বন্ধু, তুমি নিজেই তোমার প্রকৃত শত্রু। কথাটা খুবই সত্যি। বাইরের প্রভাব, সেটা কারোর সুন্দর বক্তব্য হতে পারে, কোনও পারিপার্শ্বিক বা রাজনৈতিক ঘটনা হতে পারে, কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, যেগুলো সাধারণত কোনও মানুষের ওপর বলা ভাল, কারোর ব্যাক্তিত্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কিন্তু, কেউ যদি নিজে থেকে পরিবর্তিত না হয়, তাহলে এই ঘটনাগুলোর কোনও ফলই তাদেরকে পরিবর্তিত করতে পারবে না। স্বামিজি বার বারই বিভিন্ন লেখায়, বিভিন্ন সভায় বলছেন, কাউকে “অনুসরণ” করা ভাল। কিন্তু অনুকরন করা ভাল নয়। কাউকে অনুসরণ না করলে তার ভাল গুনগুলো নিজেদের জীবনে ব্যাবহার করত্যে না পারলে তো জীবনের উত্তরণ ঘটবে না. অন্য কিছু পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করাই ভাল. সেটাই হোক জীবন গঠনের বানী.

 

You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed. Both comments and pings are currently closed.